মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে

কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর লেখা বইয়ের শুভ উদ্ভোধন

 

কমিউনিটি পুলিশ কার্যক্রমের ইতিবৃত্ত Police and Community with Concept of Community Policing এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 
 
৯ আগস্ট শনিবার সকালে পুলিশ অডিটরিয়াম, রাজারবাগে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন ও আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বইটির রচয়িতা বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচ টি ইমাম বলেন, আপনাদের চিন্তা চেতনায় যা ছিল শহীদুল হক তা একত্রিত করে পথ দেখিয়েছেন। তিনি বইটিতে নতুন চিন্তার খোরাক দিয়ে, নতুন ধারণা দিয়ে, আমাদেরকে সমৃদ্ধ করেছেন। 
 
তিনি বলেন, সমস্যার উৎসে গিয়ে যদি সমাধান করা যায়, তবে অপরাধ সংঘটিত হবে না। পুলিশিং এ পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চিন্তা চেতনায় বিরাট পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। জন প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। 
 
পুলিশের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত পুলিশ সদস্যগণ আত্মত্যাগ করে আসছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ৫ মে পুলিশ যদি দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিত তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতাম? ৬ মে তারা যদি ব্যাংকগুলোতে আক্রমণ করত তাহলে কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো? হয়তো বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হতো। আর তা করতে গিয়ে পুলিশের প্রায় ৩শ সদস্য মারাত্মকভাবে এবং প্রায় ৩ হাজার সদস্য বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন। 
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের পুলিশ ছিল জনগণকে শাসন করার জন্য। বর্তমান পুলিশ জনগণকে সেবা দিয়ে থাকেন।
 
কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে তিনি বলেন, এক সময় গ্রামের মাতুব্বররা বিচার করতেন। সে অবস্থার অবক্ষয় হলে কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কমিউনিটি পুলিশ বর্তমানে ছোট খাট বিচার করছে এবং জনগণকে সচেতন করছে। 
 
আইজিপি বলেন, ৭১ সালকে যদি বিভক্তির রেখা ধরা যায়, তবে দেখা যাবে ৭১ পরবর্তী সময়ে পুলিশিং এ ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধে শহীদ এবং সাম্প্রতিককালে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনকালে নিহত পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করেন। 
 
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে ড. জিয়াউর রহমান বইটির বিভিন্ন অধ্যায়ের তত্ত্বগত ও তথ্যগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেণ। বইটিতে পক্ষপাতহীন ও দিকনির্দেশনামূলক বিষয় তুলে ধারার জন্য তিনি লেখককে ধন্যবাদ জানান।
 
সিআইডি প্রধান মোখলেসুর রহমান পুলিশের জন্য একটি সময়োপযোগি ও সেবাধর্মী নতুন আইন তৈরির আহ্বান জানান।
 
লেখক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, পুলিশের সাথে জনগণের সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াসে বইটি রচনা করেছি। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি করতে পারলে উভয়েই উপকৃত হবে। 
 
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশের পরিবর্তন দেখতে হলে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভংগি নিয়ে দেখতে হবে। পুলিশের কথা আসলেই রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতিসহ সকল প্রসঙ্গ এসে যায়। সুতরাং পুলিশ সকল বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু। 
 
সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া তোবা গার্মেন্টস সংকট  সম্পর্কে কমিশনার বলেন, শ্রমিকরা যখন ভাংচুর শুরু করেছে তখনই পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, এর আগে নয়। 
মীরপুরের কালশীর ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, কালসীর ঘটনায় এক গ্রুপ পুলিশের বিপক্ষে এবং অপর গ্রুপ রাজনীতিবিদদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে দোষারোপ করেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ৫টি ঘর পুড়ে যাওয়া পরিবারগুলোকে কেউ কি সহযোগিতা করেছে? উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের বাড়ি ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করেছে, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। আগুনে দগ্ধ ফারজানাকে চিকিৎসার জন্য ৪২ হাজার টাকা দিয়েছে। 
 
পুলিশের পড়াশুনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, পড়াশুনা না করে পুলিশিং এর সুযোগ এখন আর নেই। বর্তমানে পুলিশিং করতে হলে সারা বিশ্বের পুলিশিং সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে। 
 
বক্তাদের প্রত্যেকেই দিকনির্দেশনামূলক এই চমৎকার বইটির জন্য লেখক এ কে এম শহীদুল হককে ভূয়সী প্রশংসা ও তাকে ধন্যবাদ জানান। 
 
                                                                                 বই পরিচিতি
 
Police and Community with Concept of Community Policing গ্রন্থটির লেখক বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জনাব এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম। ইংরেজি ভাষায় রচিত বইটিতে কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কিত বিষয়াবলি এগারটি অধ্যায়ে সাবলীল ভাষায় সুবিন্যাস্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। খোশরোজ কিতাব মহল কর্র্তৃক প্রকাশিত বইটির মূল্য ৪০০/- টাকা।
 
 
                                                                               বইটির সারমর্ম
 
‘পুলিশই জনতা এবং জনতাই পুলিশ’ এই মূলনীতি বাস্তবায়ণের মূল কথাই হলো কমিউনিটি পুুলিশিং। কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে কিভাবে জনগণকে পুলিশের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় অর্থাৎ জনগণের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জানমালের নিরাপত্তা, অপরাধীদের গ্রেফতার তথা সামাজিক সমস্যাদি সমাধানের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপায় উদ্ঘাটন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বইটিতে উপস্থাপিত হয়েছে।
 
বইটি কমিউনিটি পুলিশিং এর ধারণা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, দর্শণ ও বাস্তবায়ন কৌশল এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও বিখ্যাত শহরের কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম সুন্দরভাবে চিত্রিত হয়েছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে কিভাবে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরী ভূমিকা রাখছে তাও ফুটে ওঠেছে। সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা, বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণীর সাথে আন্তঃসম্পর্ক রক্ষার এক অভূতপূর্ব দিকনির্দেশনা রয়েছে এ পুস্তকে। 
 
সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন মডেলের আলোকপাত করা হয়েছে যেখানে প্রথমেই সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়, সমস্যার কারণ নির্ণয় ও বিশ্লেষণ করে সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা এবং কমিউনিটির অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোকপাত করা হয়েছে। 
 
পুলিশের উপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে কল্যাণধর্মী ও গণমুখী পুলিশিং সৃষ্টির পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও পুলিশের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কমিউনিটি পুলিশিং অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে বলে লেখকের ধারণা। 
 
ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে সম্পৃক্ত সংস্থা সমূহ যেমন-আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আইন আদালত, সংশোধনী সংস্থা সমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক গড়ে উঠার ধারণা তুলে ধরেছেন। তাছাড়া শিশু, যুবক, বয়স্ক ব্যক্তি, ভিকটিম তথা সাক্ষীদের সাথে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের মন জয় করা যায় এবং অপরাধ থেকে দূরে রাখা যায় তা ও সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। 
Police and Community with Concept of Community Policing বইটির লেখক তথা কমিউনিটি পুলিশিং এর প্রবর্তক জনাব এ কে এম শহীদুল হক তাঁর লেখনীতে পুলিশ এবং জনগণ সম্মিলিত উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমন এবং সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠন করে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ধারণা বইতে প্রতিফলিত হয়েছে।


Share with :

Facebook Twitter